April 7, 2026, 12:24 am

সংবাদ শিরোনাম
মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

“কাজীর গরু খেতাবে আছে, গোয়ালে নেই” বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়ন পরিষদ টিআর-খাবিটার অনিয়মের অভিযোগ

কামাল হোসেন,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)

mostbet

কথায় আছে কাজীর গরু খেতাবে আছে গোয়ালে নাই। এরই প্রমান ও মিল খোঁজে পাওয়া যায় জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের টিআর ও র্কমসূচির কাজের বেলায়। জানাযায়, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির(১ম পর্যায়ে) ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন(টিআর) প্রকল্প বাস্তবায়নের আওতায় বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়নের নাম মাত্র কাজ করিয়ে বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজ না করিয়েই টাকা আত্তসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া মুখ চিনে মূগোর ডালের ন্যায় নিজের লোকদের নাম মাত্র পিআইসি কমিটি করে নিজেই সব প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে নেন। এমন কি হাতে গুনা কয়েকটি প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করিয়ে বাকীসব প্রকল্পের কাজ না করিয়েই সব টাকা উত্তোলন করে নিজের পকেট ভারী করে আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সংসদ পীর ফজলুর রহমান মিজবাহ এমপির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া তার মনের খেয়ালখুশি মত প্রকল্পের কাজ করে গেলেও ভয়ে তার বিরোদ্ধে কিছু বলার সাহস পায়না। যার ফলে বাদাঘাট দক্ষিণ ইউপিতে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম পর্যায়ের টিআর ও কর্মসূচির কাজের টাকা উত্তোলন হলেও হয়নি কোন কাজ। সমপ্রতি ইউপির বিভিন্ন ওর্য়াড গুলোতে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় প্রকল্পের নামে শুধু টাকাই উত্তোলন হয়েছে, কিন্তু কোন কাজই করেনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার অফিস সুত্রে জানা যায়, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউপির জন্য ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটের কর্ম সূচির কাজের মধ্যে জামালপুর ব্রীজের দুইপাশে মাটি ভরাটে প্রকল্পের বরাদ্দ আসে টাকার পরিমাণ ৩৭ হাজার ১শত টাক। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ওই ব্রীজের দু’পাশের মাটি ভরাট করা কথা থাকলেও এখানে এক মুঠু মাটি না ফেলেও প্রকল্পের সব টাকা উত্তোলণ করে আত্তসাত করে চেয়ারম্যান নিজেই। এদিকে বাগগাঁও আজিজ সরদারের বাড়ি হতে আবু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ও মিয়ারচর তারা মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন এলজিইডির রাস্তা হতে মনবেগ আউয়ালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৪০ জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্দকৃত দেওয়া হয় ৩,২০,০০০ টাকা, গন্ডামার আক্তারের বাড়ি হতে মসজিদের রাস্তা পর্যন্ত ও উলাস নগর নয়াহাটি আব্দুল আলীর বাড়ি হতে গোলেনুর এর বাড়ি ভায়া এলজিইডির রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩,২০,০০০ টাকা, দুর্গাপুর ডরের কান্দা হতে ভাটিপাড়া এলজিইডির রাস্তা পর্যন্ত ও ভাটিপাড়া এলজিইডি রাস্তা হতে বিধু মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুণঃ নির্মাণে ৪০ জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩,২০,০০০ টাকা, লক্ষীপুর চারগ্রাম শ্বশানঘাট হতে ব্রজনাথপুর পর্যন্ত ও দুর্গাপুর গ্রামের মোকাম বাড়ির পাশ হতে গ্রামের হালট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৪০ জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩,৬০,০০০ হাজার টাকা।
ইউপির বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানাযায়, ২৫ দিনের কর্ম সূচির কাজের মধ্যে ১০-১২ দিন কাজ করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিগণ বলছেন তারা ২৫ দিনই কাজ করেছেন। ৫নং ইউপি সদস্য তিতু মিয়া বলেন, আমি কিছুটা কাজ করেছি, পুরোপুরি ভাবে কাজ করতে পারিনি বৃষ্টির কারণে। অপর দিকে টিআর এর কাজের মধ্যে ইকর আটিয়া কালি মন্দির উন্নয়নে ছাড়কৃত টাকার পরিমাণ ৩৭,১০০ টাকা, সিবিআর এমপির রাস্তা হতে শক্তিয়ারখলা সুরেন্দ্র নাথের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ছাড়কৃত টাকার পরিমাণ ৩৭,১০০ টাকা, সিবিআর এমপির রাস্তা হতে উলাশ নগর কবর স্থান পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ছাড়কৃত টাকার পরিমাণ ৩৭,১০০ টকা, ও সিবিআর এমপি রোড হতে আতর আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ছাড়কৃত টাকার পরিমাণ ৩৭,১০০ টাকা দেওয়া হলেও হয়নি কোন কাজ। ইকর আঠিয়া কালি মন্দির উন্নয়নের কাজের কথা জানতে চেয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি কোন কাজের কথা জানি না। এব্যপারে জামালপুর ব্রীজের দু’পাশের মাটি ভারট প্রকল্পের পিআইসি সভাপতি কালা মিয়া বলেন, ভাই আমি নাম মাত্র সভাপতি! প্রকল্প আইছে, টাকাও আইছে কিন্তু টাকা চেয়ারম্যান তুইলা নিয়া গেছে। চেয়ারম্যান আমাদের টাকা না দিলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হইলেও কাজ করমু কিভাবে। এ ব্যপারে বাদাঘাট(দঃ) ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এরশাদ মিয়া বলেন, বেশ কিছু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কাজ না করে টাকা উত্তোলণ করার বিষয়টি শিকার করে বলেন, যে কয়টি প্রকল্প মাটি ভরাট করতে পারেনি এগুলো আশপাশে পানি থাকার কারনে। কিন্তু কোন কাজ না করেই টাকা উত্তোলণ করে আত্তসাত করেছেন অভিযোগ এলাকাবাসী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পের টাকা আমার কাছে নেই পিআইসি সভাপতিদের কাছেই। তবে অচিরেই এগুলো কাজ করা হবে।

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১ মার্চ ২০১৮/রুহুল আমিন

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর